বিশ্বব্যাংকের সতর্কতা

উন্নয়নশীল দেশগুলোকে আরো ঋণগ্রস্ত করছে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা

ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর ঋণের চাপ ও মন্থর প্রবৃদ্ধির সমস্যাকে আরো জটিল করে তুলছে বলে সতর্কতা জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর ঋণের চাপ ও মন্থর প্রবৃদ্ধির সমস্যাকে আরো জটিল করে তুলছে বলে সতর্কতা জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। তবে চলমান শুল্কবিরোধে বিবদমান দেশগুলো নিজেদের শুল্ক কমালে তা প্রবৃদ্ধিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মন্তব্য করেছে সংস্থাটি। রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে সংস্থার প্রধান অর্থনীতিবিদ ইন্দেরমিত গিলের এ সতর্কতা উঠে আসে।

গিল জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক ঘোষণার পর বিশ্বব্যাপী অর্থনীতিবিদরা দ্রুত উন্নত দেশগুলোর প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে দিচ্ছেন। তবে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত এ সংশোধন তুলনামূলক কম।

শতবর্ষের মধ্যে সর্বোচ্চ মার্কিন শুল্ক এবং চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা ও অন্যান্য দেশের পাল্টা শুল্কের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, তা এখন ওয়াশিংটনে চলমান আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন সভাগুলোর প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।

আইএমএফ মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র, চীনসহ বেশির ভাগ দেশের জন্য তাদের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে দিয়েছে এবং আরো বাণিজ্য সংঘাত হলে বিশ্ব প্রবৃদ্ধি আরো কমবে বলে সতর্ক করেছে। তারা ২০২৫ সালের জন্য বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৮ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে, যা জানুয়ারির পূর্বাভাসের চেয়ে অর্ধেক শতাংশীয় পয়েন্ট কম।

গিল বলেছেন, বৈশ্বিক অর্থনীতিবিদদের মধ্যে একটি সাধারণ ঐকমত্য তৈরি হয়েছে যে প্রবৃদ্ধি ও বাণিজ্যের পূর্বাভাসে বড় ধরনের পতন আসছে। এরই মধ্যে যে অনিশ্চয়তা সূচক ১০ বছর আগের তুলনায় অনেক বেশি ছিল, তা ট্রাম্পের ২ এপ্রিলের শুল্ক ঘোষণার পর আরো বেড়ে গেছে।

গিল বলেন, ‘‌২০০৮-০৯ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট বা কভিড-১৯ মহামারীর মতো আগের ধাক্কাগুলোর তুলনায় এবারের ধাক্কাটি চাইলেই প্রতিরোধ করা সম্ভব।’

তিনি বলেন, ‘‌বর্তমান সংকট উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি আরো কমিয়ে দেবে। গত দুই দশকে যেখানে এসব দেশের প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ৬ শতাংশ, এখন বৈশ্বিক বাণিজ্য বৃদ্ধির হার কমে মাত্র ১ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ২০০০-এর দশকের ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় অনেক কম।’

গিল বলেন, ‘আগেই পরিস্থিতি ভালো ছিল না, তার ওপর এখন হঠাৎ করে এ মন্থরতা আরো চাপ বাড়াচ্ছে। পোর্টফোলিও ফ্লো ও প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) দুটোই এখন কমছে, যেমনটা আগের বৈশ্বিক সংকটগুলোর সময় দেখা গিয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘ভালো সময়ে উন্নয়নশীল দেশে এফডিআই ছিল জিডিপির ৫ শতাংশ। এখন সেটা মাত্র ১ শতাংশ। পোর্টফোলিও ফ্লো আর এফডিআই দুটোই সামগ্রিকভাবে কমছে। উচ্চ ঋণের কারণে এখন ১৫০টি উন্নয়নশীল দেশ ও উদীয়মান বাজারের প্রায় অর্ধেকই হয়তো ঋণ পরিশোধ করতে পারবে না, অথবা সে ঝুঁকিতে রয়েছে। এ হার ২০২৪ সালের তুলনায় দ্বিগুণ ও বৈশ্বিক অর্থনীতি আরো মন্থর হলে ঋণ পরিশোধ করতে না পারা অর্থনীতির সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কমে গেলে বাণিজ্যও কমে যায় এবং সুদহার বেশি হয়। সেক্ষেত্রে আরো অনেক দেশ ঋণ সংকটে পড়বে।’

আরও